ঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল বৃদ্ধ মায়ের মরদেহ, পালিয়েছে ছেলে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
ঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল বৃদ্ধ মায়ের মরদেহ, পালিয়েছে ছেলে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর এক বৃদ্ধ নারীর মরদেহ নিজ ঘরের মেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মারুফা বেগম (৬০)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার থেকে মারুফা বেগম নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে তার সন্তানরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় তার স্ত্রী ঘরের বিছানা গোছাতে গিয়ে তোশকের নিচে রক্তের দাগ এবং মেঝেতে ফাটল দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

পরে লাভিন মিয়া থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে রক্তের চিহ্ন ও মেঝেতে ফাটল দেখতে পায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। নিহতের ছোট ছেলের দাবি, তার বড় ভাই জুয়েল মিয়া মাকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখতে পারেন। ঘটনার পর থেকে জুয়েল মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

লাভিন মিয়া বলেন, “আমার মায়ের সঙ্গে বড়ভাইয়ের স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে আমরা রক্তের দাগ ও মেঝেতে ফাটল দেখতে পাই। আমার ধারণা, আমার বড়ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।” এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং ঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধ নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।