অবশেষে খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির স্থানান্তর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
অবশেষে খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমির স্থানান্তর

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা নারী কুমিরটিকে অবশেষে স্থানান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি কুমিরের আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মৃত্যুর পর জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিলে প্রশাসন, বন বিভাগ ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত ছিল। একসময় এখানে ‘ধলাপাহাড়’ ও ‘কালাপাহাড়’ নামে দুটি কুমির ছিল। পরে ২০০৬ সালে ভারত থেকে আনা কুমির অবমুক্ত করা হয়। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে।

গত সোমবার রাতে দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমে শিশু ফাতেমা কুমিরের আক্রমণে নিহত হলে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় জনস্বার্থে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার সকাল থেকে বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞ, উদ্ধারকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাজার এলাকায় অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর দিঘির একটি অংশে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ কৌশলে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং নিরাপদে হাত-পা ও চোখ বেঁধে উদ্ধার করা হয়।  পরে বন বিভাগের গাড়িতে করে কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

কুমির স্থানান্তরের পর মাজার এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ঘটনার পর থেকে দিঘি এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। ঢাকা থেকে আগত দর্শনার্থী মো. সোহেল রানা বলেন, “শিশু ফাতেমার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ায় এখন কিছুটা নিরাপদ অনুভব করছি।” খুলনা থেকে আসা মো. আব্দুর রহিম বলেন, “ঐতিহ্য রক্ষা জরুরি, তবে মানুষের জীবন আগে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে।”

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত প্রাণীটি খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকবে এবং পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দিঘি এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।