পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসে থাকে অবুঝ-অসহায় ২ শিশু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৩, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসে থাকে অবুঝ-অসহায় ২ শিশু

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে দুই শিশু মেহেদী ও মাইনুল। তাদের বাবা প্রতিবন্ধী নাসির হাওলাদার বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। আর সেই ঘটনার আগেই মা আসমা বেগম পরকীয়ার টানে দুই সন্তানকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আসমা বেগম আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি। ফলে দুই শিশু এখন পুরোপুরি দাদির আশ্রয়ে বেড়ে উঠছে। ষাটোর্ধ্ব বিধবা রিজিয়া বেগম বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে কোনোভাবে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

দাদির কষ্টের জীবনেও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। শারীরিক দুর্বলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি এখন দুই নাতির দায়িত্ব নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক সময় পরিবারটিকে একবেলা খাবার জোটাতেও কষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বড় ছেলে মেহেদী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে মাইনুল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়মিত খাবার না পাওয়ায় দুই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাই প্রায়ই বাবার কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকে। কখনও নীরবে দীর্ঘ সময় কাটায়, আবার কখনও খেলতে খেলতে সেখানে চলে যায়। তাদের শিশুসুলভ আচরণের মধ্যেও ফুটে ওঠে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া।

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি এখন চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। দাদির একার পক্ষে আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত সহায়তা না পেলে শিশু দুটির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

এলাকার সচেতন মহল, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অসহায় শিশু দুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সামান্য সহায়তাই বদলে দিতে পারে মেহেদী ও মাইনুলের জীবন।

উল্লেখ্য, মানবিক সহায়তার প্রয়োজনে শিশু দুটির দাদি রিজিয়া বেগমের বিকাশ/নগদ নম্বর হিসেবে ০১৩২৪৯৯৭৩৯৫ দেওয়া হয়েছে।