‘পাগলা’ মহিষের আক্রমণে আহত ১১, জবাই করে ‘প্রতিশোধ’ নিলো গ্রামবাসী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘পাগলা’ মহিষের আক্রমণে আহত ১১, জবাই করে ‘প্রতিশোধ’ নিলো গ্রামবাসী

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একটি খামার থেকে ছুটে আসা ‘পাগলা’ একটি মহিষের আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পরে মহিষটিকে জবাই করে তার মাংস বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩১ মে) আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের উদয়দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২৬ মে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত আলী আকবরের খামার থেকে মহিষটি নিখোঁজ হয়। কয়েকদিন পর এটি উদয়দী গ্রামে দেখা যায় এবং হঠাৎ করে আশপাশের লোকজনের ওপর আক্রমণ শুরু করে।

আক্রমণে বড়ইকান্দি গ্রামের রাজিব মিয়া, বল্লভদী কান্দা এলাকার মাসুম মিয়া, আলমগীর হোসেন, দরিয়াবাদ এলাকার সাদমান হোসেন, মেহেদী হাসান, শরিফ মিয়া, মো. জাকারিয়া, ইসমাইল হোসেন, ইব্রাহিম মিয়া এবং ফজলে রাব্বি আহত হন। আহতদের মধ্যে জাকারিয়া, ইসমাইল ও ইব্রাহিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা মহিষটিকে ঘিরে ফেলে জবাই করে ফেলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মহিষের মাংস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ মালিককে দেওয়া হবে। তবে খামার মালিক আলী আকবর এ সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন।

আলী আকবর গণমাধ্যমকে জানান, মহিষটি নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ করছিলেন। পরে জানতে পারেন এটি গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং স্থানীয়রা তাকে না জানিয়ে মহিষটি জবাই করে ফেলেছে।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।