অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন, ফিরলেন ৩৮ বছর পর 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন, ফিরলেন ৩৮ বছর পর 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দি গ্রামে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হারিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তির ফিরে আসাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ, কান্না ও বিস্ময়ের এক আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার (১ জুন) বিকেলে নিজ জন্মভিটায় ফিরে আসেন জবেদ আলী (৬৬)।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে গ্রামের পথে ধীরে হাঁটতে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে প্রথমে কেউ চিনতে পারেনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর ও ক্লান্ত মুখে তিনি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে পরিবারের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমে স্ত্রী রুশিয়া খাতুন তাকে চিনে ফেলেন এবং আবেগে চিৎকার করে ওঠেন—“ওই তো আমার মানুষ!” পর মুহূর্তেই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ভিড় করেন। কান্না, আলিঙ্গন আর দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেগে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে পারিবারিক অভিমান ও কলহের জেরে চার বছরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও স্ত্রী রুশিয়া খাতুনকে রেখে বাড়ি ছাড়েন জবেদ আলী। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করা হলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে তাকে মৃত বলেও ধরে নেওয়া হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তার মা ও দাদি মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার ধীরে ধীরে তাকে হারানোর শোক মেনে নিলেও কখনোই পুরোপুরি আশা ছাড়েনি।

জবেদ আলীর স্ত্রী রুশিয়া খাতুন বলেন, প্রথম দিকে প্রতিদিনই মনে হতো তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। আজ তাকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে, নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি। তিনি আরও জানান, তাদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এখন প্রবাসে রয়েছেন। বাবার ফিরে আসার খবর পেয়ে তিনি আবেগে ভেঙে পড়েছেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, জবেদ আলী একসময় এলাকায় লাঠিখেলার জন্য পরিচিত ছিলেন এবং যাত্রাপালার মঞ্চেও তার সুনাম ছিল। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রামের ইতিহাসে এক অদ্ভুত অধ্যায় হয়ে আছে। চাচাতো ভাই বক্কার আলী বলেন, “তার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের গ্রামের মানুষের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। আজ তাকে জীবিত ফিরে পেয়ে আমরা সবাই অভিভূত।”

নিজের ফিরে আসার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জবেদ আলী। তিনি বলেন, অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিলেন, কিন্তু কখনো পরিবারকে ভুলতে পারেননি। দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। শেষ বয়সে এসে বুঝেছেন, পরিবারের ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। তাই সব অভিমান ভুলে তিনি ফিরে এসেছেন নিজের শিকড়ে। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর এই পুনর্মিলন এখন পুরো গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।