ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে অভিমানে আত্মহত্যা, মাদারগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী সাগরের মৃত্যু


মো: আনিছুর রহমান, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে অভিমানে আত্মহত্যা, মাদারগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী সাগরের মৃত্যু

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাক আহমেদ সাগর (২৫)। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পল্লি চিকিৎসক মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে সাগর ভারতের ফরিদাবাদ এলাকায় অবস্থিত মানব রচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ-এ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস পোস্ট করার কিছু সময় পর তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।

সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু জানান, বিকেলে ছেলের দেওয়া ফেসবুক পোস্ট দেখতে পান স্বজনরা। কিছু সময় পর ভারত থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়।

ফেসবুক পোস্টে সাগর মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে লেখেন, জীবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি কাছের মানুষদের কাছে দোয়া চান এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসের আরেক অংশে তিনি ব্যক্তিগত হতাশা ও অপূর্ণ ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন। কাউকে দোষারোপ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি লেখেন, তার সিদ্ধান্তের জন্য যেন অন্য কাউকে দায়ী করা না হয়। মৃত্যুর পর পোস্টমর্টেম না করা এবং ঝামেলাহীনভাবে দাফনের কথাও উল্লেখ করেন ওই পোস্টে।

নিহতের মা সুফিয়া বেগম জানান, শনিবার দুপুরে ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। সে সময় আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয়। ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন বলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তিনি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ফোনে সাগরের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে। বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে তার মরদেহ রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এদিকে স্নেহাশিস রায় জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সাগরের মৃত্যুর বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন।

সাগরের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে। বন্ধু, সহপাঠী ও স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।