মঠবাড়িয়ায় পৃথক নৃশংসতায় ব্যবসায়ীসহ দুজনকে কুপিয়ে হত্যা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৪, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় পৃথক নৃশংসতায় ব্যবসায়ীসহ দুজনকে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা ও প্রতিপক্ষ। রোববার (২৪ মে) দুপুরে টিকিকাটা ইউনিয়ন ও ফুলঝুরি গ্রামে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন—স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০) এবং জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুরি গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ ওই গ্রামের ফজলুল হক শরীফের ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মো. আরাফাত শরীফ (৩০), তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং আরও ২–৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এর কিছু সময় পর উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদার বাড়ি থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কাইয়ুম ওই এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কাইয়ুম বাড়িতে একাই ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাকে ধারালো কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। একই দিনে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ফুলঝুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অন্যদিকে কাইয়ুম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। দুটি ঘটনায় পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।