মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা, ধরতে না পেরে ‘পথচারীদের গ্রেপ্তার’ করল পুলিশ!


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২৩, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা, ধরতে না পেরে ‘পথচারীদের গ্রেপ্তার’ করল পুলিশ!

শরীয়তপুরের জাজিরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের হয়ে মহাসড়কে মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে নিরীহ পথচারীরাও ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরের দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের জাজিরা কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাজিরা থানা পুলিশ জানতে পারে যে ওই এলাকায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর পুলিশ অভিযান চালালে সন্দেহভাজনরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল মিছিলের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে না পেরে পুলিশ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশ থেকে প্রথমে ৬ জন এবং পরে আরও ২ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জাজিরা থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হিমায়েত হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আটক ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার (২৩ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন নড়িয়া, জাজিরা ও শরীয়তপুর সদরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তবে তাদের স্বজনদের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা নিরীহ ও কর্মজীবী মানুষ, যাদের রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গ্রেপ্তার শাকিল শিকারীর বাবা বিল্লাল শিকারী বলেন, তার ছেলে স্বর্ণের দোকানে কাজ করে এবং পারিবারিক কাজে কলেজ এলাকায় গিয়েছিল। একইভাবে অন্যান্য গ্রেপ্তারদের পরিবারও দাবি করছে, তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সম্পূর্ণভাবে নিরপরাধ।

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, ঘটনাস্থল ও সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে নিরপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে পুলিশের অভিযানকে নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগে প্রশ্নও উঠেছে।