রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ

বুধবার (২০ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সাত বছরের মেয়েও যাদের কাছে নিরাপদ না, মানুষ নয় তারা নরপিশাচ। এইসব নৃশংসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র সমাধান শরীয়া আইন।” এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির মাথা শৌচাগারে এবং শরীরের বাকি অংশ খাটের নিচে পাওয়া যায়।

পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে পল্লবী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, সকালে রামিসার মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়েটির জুতা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় তার। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর দরজা খোলা হলে সেখানে স্বপ্না আক্তারকে পাওয়া যায়। তবে অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি খণ্ডিত করা হয়েছিল। তবে শিশুটির মায়ের উপস্থিতির কারণে পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি অভিযুক্তরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নওগাঁর সিংড়া উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোহেল রানার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগের একটি মামলাও রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার স্বপ্না আক্তার দাবি করেছেন, তিনি ঘুমের ওষুধ সেবন করে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে পুলিশের দাবি, দরজা না খোলা এবং মূল আসামিকে পালাতে সহায়তা করার মাধ্যমে তিনি অপরাধে সহযোগিতা করেছেন। নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। পরিবারটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।