নিহত শিক্ষিকাকে দেখতে গিয়ে ছাত্রীরও মৃত্যু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
নিহত শিক্ষিকাকে দেখতে গিয়ে ছাত্রীরও মৃত্যু

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার মরদেহ দেখতে গিয়ে হাসপাতালে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে পরপর দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত শিক্ষিকা কুলসুম (৪৮) লাবণ্যপ্রভা কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর শিক্ষক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাফিজার রহমানের স্ত্রী। অন্যদিকে নিহত ছাত্রী তাসনিম আক্তার (১৩) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং উপজেলার ডাঙ্গিসাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবুল কালামের মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে বদলগাছী–পত্নীতলা সড়কের চাকরাইল বটতলী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ধান মাড়াই মেশিন (বঙ্গা) ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে বদলগাছী ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে ভিড় করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রিয় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাসনিম আক্তার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

তাসনিমের বাবা আবুল কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ফেসবুকে শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর দেখে আমার মেয়ে হাসপাতালে যায়। সেখানে গিয়ে সে নিজেও মারা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকিয়ে রাখার কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার পর রাস্তা থেকে দ্রুত ধান সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায় বলে তারা জানান।

বদলগাছী থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শিক্ষিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, একই দিনে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক বিরাজ করছে। পাশাপাশি সড়কে ধান-খড় শুকানো বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।