দৌলতদিয়ায় পল্লীতে নারীর রহস্যজনক মৃ’ত্যু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
দৌলতদিয়ায় পল্লীতে নারীর রহস্যজনক মৃ’ত্যু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পল্লীতে নিজ কক্ষে পানিভর্তি একটি বালতিতে মুখ ডুবানো অবস্থায় এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকালে মুন্নি বেগম (৩৮) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর মঞ্জুর বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। নিহত মুন্নি বেগম মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা পূর্ব বান্দাইল গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন ও লালজানের মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুন্নি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আর্থিক সংকটের কারণে তার আয়-রোজগারও কমে গিয়েছিল বলে তারা জানান। ওষুধ কেনার মতো অবস্থাও তার ছিল না বলে দাবি করেন পল্লীর কয়েকজন বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সোমবার সকালে মুন্নির কক্ষের দরজা অনেকক্ষণ বন্ধ থাকায় ডাকাডাকি করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহ হলে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

পুলিশ জানায়, কক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায়, মুন্নি বেগম পানিভর্তি একটি বালতির মধ্যে মুখ নিচের দিকে দিয়ে উপুড় অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘটনাস্থল থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে বাড়িওয়ালা মঞ্জু জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি বাইরে যান। সকালে ফিরে এসে জানতে পারেন, মুন্নি ঘরের দরজা খুলছেন না। পরে বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত বিষয়টি রহস্যজনক হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।