ঋণের চাপে স্ত্রীকে হত্যার পর শিশুসহ আত্মহত্যা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
ঋণের চাপে স্ত্রীকে হত্যার পর শিশুসহ আত্মহত্যা

মাদারীপুরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে আট মাস বয়সী শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এটি হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা সাংবাদিকদের জানান, স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় ও ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে স্বামী প্রথমে স্ত্রীকে হত্যা করেন এবং পরে আট মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার পূর্ব কলাগাছিয়া এলাকার যতিন শিকদার ও তার স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ আমিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছিলেন। রোববার (১৭ মে) বিকেলে যতিন শিকদারের প্রথম স্ত্রীর ছেলে চিন্ময় শিকদার তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সাউদা ওরফে ইশা এবং আট মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকার থেকে মাদারীপুরে আসেন। পরে তারা ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান নেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাতের খাবারের পর পরিবারের সদস্যরা কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে মধ্যরাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন মিষ্টি বাড়ৈ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে সোমবার (১৮ মে) ভোরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত ইসরাত জাহান দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন চিন্ময় শিকদার। এতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে মানসিক চাপে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই চাপ থেকেই তিনি এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে পুলিশ মনে করছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক ও নীরবতা নেমে এসেছে।