১৬ মাসে দেশে ঢুকেছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
১৬ মাসে দেশে ঢুকেছে দেড় লাখ রোহিঙ্গা

কক্সবাজার-এ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন অনুপ্রবেশ এবং শরণার্থী শিবিরে উচ্চ জন্মহারের কারণে রোহিঙ্গা সংকট দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

১৩ মে প্রকাশিত ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৯ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে এবং নিবন্ধিত হয়েছে। গত মাসে একাই আরও ২ হাজার ৭৮০ জন নতুন করে ক্যাম্পে যুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার জায়গায় বিপুল জনসংখ্যার চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রায় ৫ লাখ মানুষের বিপরীতে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় পুরো এলাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, কক্সবাজারের উখিয়াটেকনাফ-এর ৩৪টি ক্যাম্পে বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, বাস্তবে ক্যাম্প ও আশপাশ এলাকায় মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখের কাছাকাছি।

জনসংখ্যাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ শিশু, ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪ শতাংশ প্রবীণ। লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে ৫১ শতাংশ নারী এবং ৪৯ শতাংশ পুরুষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ শিশু জন্ম নিচ্ছে, ফলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার নতুন শিশু যোগ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতার অভাব, রক্ষণশীল সামাজিক কাঠামো এবং জন্মনিয়ন্ত্রণে অনীহা এ উচ্চ জন্মহারের অন্যতম কারণ। এতে মানবিক সহায়তার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো ২০২৫-২৬ সালের জন্য যৌথভাবে প্রায় ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের সহায়তা চাইলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২১ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজার এলাকায় প্রায় ৮ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জীববৈচিত্র্যেও প্রভাব ফেলছে।