​সুদের টাকার জন্য ৬ মাসের শিশুকে অপহরণ করলেন চাচি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
​সুদের টাকার জন্য ৬ মাসের শিশুকে অপহরণ করলেন চাচি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় সুদের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে জাহিদ রাফসান (৬) নামে এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি আমেনা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহৃত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) রাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে স্থানীয়দের সহায়তায় আমেনা বেগমকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অপহৃত শিশু জাহিদ রাফসান জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের হাজী মজিদ বেপারী কান্দি এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জুয়েল মল্লিক ও রাত্রি বেগম দম্পতির ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে রাত্রি বেগম তার জা আমেনা বেগমের মাধ্যমে সুদের ওপর ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন। রাত্রি বেগমের দাবি, তিনি সুদসহ প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে আমেনা বেগমের অভিযোগ, তিনি অন্য জায়গা থেকে ঋণ করে টাকা এনে দিয়েছিলেন এবং এখনো বড় অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। এই আর্থিক বিরোধ নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার ভোরে খেলার কথা বলে আমেনা বেগম শিশু জাহিদকে নিজের কাছে নেন এবং পরে তাকে নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে আমেনা বেগম মোবাইল ফোনে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

রোববার দুপুরে শিশুটির পরিবার টাকা দেওয়ার কথা বলে আমেনা বেগমকে ডুবিসাবর বন্দরের কাজীরহাট নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডেকে আনে। সেখানে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান নিলেও শিশুটিকে সঙ্গে আনেননি। পরে স্থানীয় জনতা ও শিশুর স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে আমেনা বেগমকে আটক করে। শিশুটির মা রাত্রি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা খুব ছোট, দুধ ছাড়া কিছু খেতে পারে না। ওকে ছাড়া আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম।” আটকের পর আমেনা বেগম নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানান, পাওনা টাকা আদায়ের জন্যই তিনি শিশুটিকে আটকে রেখেছিলেন।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সক্রিয় ছিল। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে উদ্ধারের স্থান ও বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।