দুর্যোগ আসার আগেই পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা, কমবে ক্ষয়ক্ষতি 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ আসার আগেই পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা, কমবে ক্ষয়ক্ষতি 

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্পের সূচনা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবিক সহায়তা সংস্থার অর্থায়নে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নাম ‘প্রতিষ্ঠা (PROTISTHAA)’। এটি মূলত দুর্যোগ পরবর্তী সাড়াদান ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে আগাম প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটি উপকূলীয় এলাকা, হাওর অঞ্চল এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়ন করা হবে।

Untitled-1

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম সফিকুল হায়দার। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়া। এ ধরনের উদ্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হলেও অনেক সময় সেই তথ্য প্রান্তিক পর্যায়ে যথাযথভাবে পৌঁছায় না, যা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন জানান, আগাম সতর্কতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে বড় ধরনের ফসলহানি ঘটে, যার আর্থিক ক্ষতি হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক এসএম রেজাউল করিম বলেন, কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও আগাম তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ফুয়াদ উর রব্বি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্যকে সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করা হবে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।