
শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার এবং তার স্ত্রী আসমা আক্তার। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে তার স্বামীর মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়া সরদারের মৃত্যু হয়।
এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ গোপনে টুকরো করার চেষ্টা করেন তিনি। পুলিশ জানায়, মরদেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে রাখা হয়—হাড় একটি ড্রামে এবং অন্যান্য অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
পরে মাংসের অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, এতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি টের পেয়ে তারা জরুরি সেবায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তারা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।
আপনার মতামত লিখুন :