
ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে বড় ভাইও। নিহতরা হলো-লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের রেজাউল ইসলামের বড় ছেলে শিফাত (১৮) এবং ছোট ছেলে মো: সোয়াইব করিম স্বচ্ছ (১৪)।
নিহতদের মধ্যে ছোট ভাই স্বচ্ছ লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির ‘রত্নাই’ শাখার মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল (আইডি নং: ৬০৩৬২৩)। একই সাথে দুই সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে দুই ভাই একসাথে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে ছোট ভাই স্বচ্ছ নদীর তীব্র স্রোতের কারণে পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। তাকে ডুবতে দেখে বড় ভাই শিফাত নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যায় এবং আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতে একপর্যায়ে দুজনই নিখোঁজ হয়ে যায়।
দুই ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর নদী থেকে দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করার পরপরই তাদের অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই ভাইকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহম্মেদ জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী। নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে ছুটে যায়। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ছোট ভাইকে বাঁচানোর বড় ভাইয়ের এই আকুল আত্মত্যাগ এবং দুই ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে রাজপুর গ্রামজুড়ে এখন চলছে মাতম। বিশেষ করে মেধাবী ছাত্র স্বচ্ছের আইডি কার্ডটি যখন পরিবারের সামনে আসে, তখন স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস।
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের এই শিক্ষার্থীর এমন অকাল প্রয়াণে তার সহপাঠী এবং শিক্ষকদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার এই কঠিন শোক কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :