ঢাকার শিশুদের স্ক্রিন আসক্তিতে দিনে ব্যয় ৫ ঘণ্টা, বাড়ছে ঝুঁকি: গবেষণা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
ঢাকার শিশুদের স্ক্রিন আসক্তিতে দিনে ব্যয় ৫ ঘণ্টা, বাড়ছে ঝুঁকি: গবেষণা

ঢাকার স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মোবাইল, টেলিভিশন ও কম্পিউটার স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা। অতিরিক্ত সময় পর্দার সামনে কাটানোর ফলে শিশুদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা, চোখের জটিলতা, স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ—আইসিডিডিআর,বি

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি বিদ্যালয়ের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় চারজনই প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়। গড়ে তারা দিনে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্রে সময় ব্যয় করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিশুদের ঘুমে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের গড় ঘুমের সময় পাওয়া গেছে মাত্র ৭ ঘণ্টা ১৮ মিনিট, যা তাদের বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঘুমের তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও শেখার সক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। পাশাপাশি প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত।

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত চঞ্চলতা কিংবা আচরণগত সমস্যায় ভুগছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাধুলা ও সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়ায় তাদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুদের আচরণে পরিবর্তন, মাথাব্যথা, চোখে অস্বস্তি কিংবা বাইরের খেলাধুলায় অনীহার মতো লক্ষণগুলো অভিভাবকদের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে গবেষকরা প্রতিদিনের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা, নিয়মিত খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিবারে যন্ত্রমুক্ত সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।