
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাশের ধোবাউড়া উপজেলার কয়েকটি এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। এর ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বুধবার সকালে হালুয়াঘাটের মেনংছড়া নদী এবং বুড়াঘাট নদী-এর একাধিক বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ করেই পানি ঢুকে পড়ে। একই দিনে ধোবাউড়ার নেতাই নদী-এর বেড়িবাঁধ ভাঙার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ আরও কয়েকটি এলাকা।
হালুয়াঘাট উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টি শুরুর পর থেকেই আমরা শঙ্কায় ছিলাম। কিন্তু বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পুরো ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে যাবে।”
অন্যদিকে ধোবাউড়ার কামালপুর গ্রামের কৃষক আসাদ মিয়া জানান, তার তিন কাটা জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং পানি আরও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হালুয়াঘাটে চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধোবাউড়ার কয়েকটি ইউনিয়নেও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং কিছু কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মো. মোশাররফ হোসেন জানান, কয়েকটি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। স্থানীয়রা বলছেন, পানি দ্রুত না নামলে শুধু ফসল নয়, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :