ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চা দোকানি বাবা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলেকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চা দোকানি বাবা

অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা রেজাউল করিম স্বপ্ন দেখেছিলেন পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মা-বাবার দায়িত্ব নেওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন থমকে গেছে ভয়াবহ অসুস্থতায়। ফুসফুসে ক্যানসার (নন-হজকিন লিম্ফোমা) ধরা পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন।

মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রেজাউল ২০২৫ সালের শুরুতে কাশি, জ্বর ও বুকের ব্যথা নিয়ে ঢাকার মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি নন-হজকিন লিম্ফোমা ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর টানা প্রায় আট মাস চিকিৎসা নেন তিনি।

প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ২১ দিনের মধ্যেই আবার পরিস্থিতির অবনতি হয়। পুনরায় পরীক্ষায় দেখা যায়, ক্যানসার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে টিউমারের আকার ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, রেজাউলকে সুস্থ করে তুলতে জরুরি ভিত্তিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (BMT) করতে হবে, যার জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থ সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারটি এই ব্যয় বহন করতে পারছে না।

রেজাউলের পরিবার জানান, তার চিকিৎসায় ইতোমধ্যে সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এমনকি ধারদেনা করে চিকিৎসা চালাতে হয়েছে। এখন বসতভিটার সামান্য জায়গা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ছেলেকে বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা-মা।

রেজাউল করিম বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ অসুস্থতা। পরে জানতে পারি ক্যানসারে আক্রান্ত। এখন নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”

তার বাবা সেলিম হাওলাদার বলেন, “ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চিকিৎসা করতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সবাই একটু সহযোগিতা করলে হয়তো আমার ছেলের জীবন বাঁচানো সম্ভব।”

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল হাসান জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে তারা রেজাউলের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

আর্থিক সহায়তা- ব্যাংক হিসাব নম্বর: ৩২৭৭১১১০১১৩০৮০৫ নাম: এমিলি বেগম (রেজাউলের মা) উত্তরা ব্যাংক (মঠবাড়িয়া ব্রাঞ্চ), পিরোজপুর।

আর্থিক সহায়তা- নাম: এমিলি বেগম (রেজাউলের মা) বিকাশ ও নগদ: 01703639100