সীমান্তে গরু ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ধাওয়া খেল বিএসএফ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তে গরু ছিনতাইয়ের চেষ্টা, ধাওয়া খেল বিএসএফ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও স্থানীয় বাংলাদেশি গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ৮৭৩ নম্বর পিলার-সংলগ্ন ধবলগুড়ি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকালে বাংলাদেশি মালিকানাধীন কয়েকটি গরু সীমান্তের কাছাকাছি ঘাস খাচ্ছিল। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘাস কাটতে থাকা দুই নারীকে বাধা দেন এবং তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গরুগুলোর দড়ি কেটে জোরপূর্বক ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই নারীদের চিৎকারে গরুর মালিক ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বাধা দেন।

এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএসএফ সদস্যরা লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র প্রদর্শন করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ধবলগুড়ি বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিজিবির শক্ত অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকরা পরে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান।

গরুর মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার গরুগুলো সীমান্তের কাছে ঘাস খাচ্ছিল। হঠাৎ বিএসএফ এসে গরু নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী বাধা দেয়।” জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি গরু নিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবি সময়মতো এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে, তবে এলাকাবাসীর মধ্যে এখনও আতঙ্ক রয়েছে।”

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বর্তমানে বিজিবির তৎপরতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে।