
ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের নতুন ও অপরিচিত এক ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের মহামারির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্রতিবেদনে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা বা বিবৃতি নেই বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
প্রচলিত বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ও ‘বি’ মানুষের মধ্যে মৌসুমি ফ্লুয়ের প্রধান কারণ হলেও ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘ডি’ মূলত গবাদিপশুর মধ্যে শনাক্ত হওয়া একটি ভাইরাস। এটি ২০১১ সালে প্রথম শনাক্ত হয় এবং এখন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণ খুবই সীমিত ও বিরল হিসেবে বিবেচিত। গবেষকরা এটিকে এখনও মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সংক্রমণ বা মহামারির ঝুঁকি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেননি।
চলমান কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, এই ভাইরাস দ্রুত রূপ পরিবর্তন করতে সক্ষম এবং মানুষের শরীরে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা বৃহৎ পরিসরের গবেষণা পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটির প্রকৃতি এখনো গবেষণাধীন, তবে এটিকে নিয়ে মহামারির মতো পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কিছু তথ্যে বলা হচ্ছে, ডব্লিউএইচও এ ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক সতর্কতা দিয়েছে—যা সংস্থাটির প্রকাশিত কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্ট বা আপডেটে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, যেকোনো নতুন বা পরিবর্তিত ভাইরাসের ওপর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাইরাসের বিবর্তন ভবিষ্যতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সেই কারণে নিয়মিত গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল তথ্য বা আতঙ্ক ছড়ানো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :