গাজীপুরে ৫ খুন, চিকিৎসকের লোমহর্ষক বর্ণনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে ৫ খুন, চিকিৎসকের লোমহর্ষক বর্ণনা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ ও নির্মম তথ্য উঠে এসেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শ্বাসরোধসহ ভিন্ন ভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক জানান, নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্মম আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ছোট মেয়ে ফারিয়াকে ঘরের মেঝেতে ফেলে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারমিন খানমকে হত্যার আগে তার দুই হাত ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। এতে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ও নির্মম ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. মাজহারুল হক আরও জানান, নিহতদের শরীরে কোনো চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাকস্থলীর খাদ্য উপাদান, ঘরে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল, রান্না করা সেমাইসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য। এসব নমুনা সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা বাদী হয়ে তার স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা মূলত গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে হত্যার স্বীকারোক্তি লেখা ছিল। এছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে লেখা একটি অভিযোগপত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ।