রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সৃষ্ট বর্জ্যের কারণে স্থানীয়দের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব জমি এখন ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন বর্জ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় সিএসও-এনজিও ফোরামের বক্তারা। “কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি” শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে তারা রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে শুধু পরিবেশই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবেও স্থানীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত, ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম, সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম এবং উখিয়ার কুতুপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তারা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন প্রকল্প ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের অংশগ্রহণ কম থাকায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বিদেশি ও জেলার বাইরের কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে নিয়োগ দিলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা ফিরবে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করা হয় এবং একটি কার্যকর প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়, যা পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে এবং স্থানীয়দের নিয়মিত তথ্য দেবে।

সংগঠনটি আরও জানায়, হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ সহায়তার সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কারা সুবিধা পাচ্ছে—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়। সব মিলিয়ে বক্তারা মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কক্সবাজারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।