হাঁচি ও কাশির মাধ্যমেও হান্টা ভাইরাস ছড়াতে পারে—সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে আসা এমন তথ্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী একটি ক্রুজশিপে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষকদের মতে, হান্টা ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন আক্রান্ত ব্যক্তির লালা ও শ্লেষ্মার মাধ্যমে ছড়াতে সক্ষম। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান, কাশি বা হাঁচির সংস্পর্শ, চুম্বন কিংবা একই পানীয় ভাগ করে পান করার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। এখন পর্যন্ত ওই জাহাজে থাকা অন্তত পাঁচজন যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ১৫০ আরোহী নিয়ে ক্রুজশিপটি আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় ভ্রমণের সময় দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন এবং পরে জাহাজে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রাপথে একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় যৌন সঙ্গীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি। এ তথ্য ভাইরাসটির সংক্রমণ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, হান্টা ভাইরাস করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় না। মূলত জাহাজের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড বলেছেন, এটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার মতো ভাইরাস নয়। আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখা বা কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে সংক্রমণ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :