স্বামী জামিন পাওয়ায় এজলাসেই বিষপান করলেন স্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
স্বামী জামিন পাওয়ায় এজলাসেই বিষপান করলেন স্ত্রী

ফেনীতে আদালত কক্ষের ভেতরেই স্বামীর জামিনের ঘটনায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা (ছদ্মনাম) নামে এক নারী। রোববার (১০ মে) দুপুরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার চার সন্তানের জনক আকবর হোসেনকে বিয়ে করেন মোহনা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। মোহনার অভিযোগ, বিয়ের আগে তিনি জানতেন না যে আকবরের আগের সংসারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে একাধিকবার তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি।

রোববার মামলার ধার্য তারিখে আদালতে হাজির ছিলেন মোহনা ও তার স্বামী আকবর হোসেন। শুনানি শেষে আদালত আকবর হোসেনকে জামিন দেন। ঠিক ওই মুহূর্তেই ক্ষোভ ও হতাশায় আদালত কক্ষের ভেতর বিষপান করেন মোহনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিষপানের পর তিনি ছটফট করতে শুরু করলে দ্রুত আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন ও বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই মোহনা এ ধরনের চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে না, এর পেছনে দীর্ঘ মানসিক চাপ কাজ করে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর তিনি বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন তার স্বামীর আগের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাননি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রোকনউদ্দৌলা জানান, বিষক্রিয়ার লক্ষণ নিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পাকস্থলী ওয়াশসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।