পরকীয়া প্রেমিককে হত্যার পর মাটিচাপা, বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
পরকীয়া প্রেমিককে হত্যার পর মাটিচাপা, বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য 

যশোরের বেনাপোল সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গোয়ালঘরের মাটিতে পুঁতে ঢালাই করে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের প্রায় ৩৫ দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ইকরামুল কবির শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন— মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) এবং ফরহাদ হোসেন (২৮)।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর সঙ্গে ইকরামুল কবিরের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক মাস পাঁচ দিন আগে প্রেমিকার কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্ত আল ফুয়াদকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ বসতপুর গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পরকীয়া সম্পর্ক ও টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ইকরামুলকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে তার ওপর ঢালাই করা হয়, যাতে বিষয়টি কেউ টের না পায়।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।