
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তরা বাজারে মাছ চুরির অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশী নামে এক ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীকে মারধরের পর তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার দাবি করছে, ৪০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত কৃষ্ণ রাজবংশী সদর উপজেলার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া এলাকার ক্ষুদিরাম রাজবংশীর ছেলে। তিনি স্থানীয় তরা বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তরা বাজারের একটি মাছের আড়ত থেকে তিন কার্টন চিংড়ি মাছ চুরি হয়। ওই ঘটনায় কৃষ্ণকে সন্দেহ করা হয়। বুধবার (৬ মে) ভোরে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাকে আটক করে মারধর করেন। পরে অন্য একজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কৃষ্ণকে বাজার কমিটির কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়।
নিহতের স্ত্রী যমুনা রাজবংশীর অভিযোগ, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বাজারে ডেকে নেওয়া হয় এবং তার সামনেই স্বামীকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সালিশের নামে তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা জোগাড়ে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
যমুনা বলেন, “আমি বলছিলাম, যদি চুরি করে থাকে তাহলে আইনের হাতে তুলে দেন। কিন্তু তারা শোনেনি। টাকা দিতে না পারায় তারা বলে, এখন মেরে ফেলা ছাড়া উপায় নেই। পরে বিকেলে শুনি আমার স্বামী নাকি গামছা দিয়ে ফাঁসি দিয়েছে। কিন্তু তার কাছে কোনো গামছা ছিল না।”
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, কৃষ্ণকে একাধিক দফায় নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা দেখা গেছে বাজারের অনেক ব্যবসায়ীর মধ্যে। ঘটনার দিন এলাকায় পুলিশ টহল থাকলেও বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে মরদেহ কে নিচে নামিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বাজার কমিটির কার্যালয়েও তালা ঝুলতে দেখা গেছে।মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :