
নড়াইলের বারইপাড়া ঘাটে নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কালিয়া সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে বদলে যাবে জেলা সদর ও কালিয়া উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র। স্থানীয়রা বলছেন, এই সেতু শুধু যোগাযোগ নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-কালিয়া সড়কের বারইপাড়া এলাকায় নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। মোট ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি চালু হলে জেলা সদর, কালিয়া উপজেলা ছাড়াও আশপাশের গ্রাম ও হাটবাজারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রসার ঘটবে। তার মতে, এটি দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সেতুটি চালু হলে নদী পারাপারের দুর্ভোগ আর থাকবে না। লক্ষ্মীপুর গ্রামের লিপন শেখ জানান, আগে নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, সেতু চালু হলে দ্রুত উপজেলা সদরে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। একইভাবে রঘুনাথপুর গ্রামের চাকরিজীবী আসিফ সরদার বলেন, সময় ও ভোগান্তি দুটোই অনেক কমে যাবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও সেতুটিকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে দেখছেন। কালিয়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আসজাদুর রহমান মিঠু বলেন, নবগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ নদীপাড়ের মানুষের জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া আনবে এবং নড়াইলকে উন্নয়নের মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবে। স্থানীয়দের মতে, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা সদরকে বিভক্ত করা নবগঙ্গা নদীর ওপর এই সেতু চালু হলে শুধু নড়াইল নয়, বাগেরহাট ও খুলনাসহ আশপাশের জেলার সঙ্গেও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেতুটি চালু হলে নদী তীরবর্তী এই জনপদে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়বে এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :