
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের আকাশে শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর রেখা ঘিরে তৈরি হওয়া কৌতূহল ও আতঙ্কের অবসান ঘটতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ালেও পরে জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবেই ওই আলোর রেখা দেখা যেতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কক্সবাজারের লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় অবস্থানরত পর্যটক ও স্থানীয়রা হঠাৎ আকাশে লালচে রঙের সরু ও উজ্জ্বল একটি আলোর রেখা দেখতে পান। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই দৃশ্য দেখে সৈকতে উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ এটিকে উল্কাপাত মনে করেন, আবার কেউ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা মহাকাশীয় কোনো বস্তুর আলোর প্রতিফলন বলে ধারণা করেন।
তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘটনাটি আবহাওয়াজনিত কোনো কারণে ঘটেনি। পরে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একই সময়ে ভারতের ওডিশা উপকূলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ বা আলোর প্রতিফলনই বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের উপকূলীয় কিছু এলাকা থেকে দৃশ্যমান হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করেনি। তবে এত দূর থেকেও এর আলোর রেখা দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।
সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) সামরিক প্রযুক্তিতে একাধিক অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ আর্মামেন্ট’ বা ‘টারা’ নামের কম খরচের একটি গ্লাইড অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে। ডিআরডিও চেয়ারম্যান সামির ভি কামাথ কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন, ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ভারতের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’-এর পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে গত ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিশাল আকাশসীমাজুড়ে ‘নোটাম’ জারি করে সতর্কতা সংকেত দিয়েছিল ভারত সরকার। প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত ওই করিডর মূলত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য সীমিত করা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপনার মতামত লিখুন :