
চুয়াডাঙ্গার সদরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আলিম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৮ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মানিকডিহি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলিম উদ্দিন একই উপজেলার শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লিয়াকত আলী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শংকরচন্দ্র গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফের কাছে ব্যবসায়িক লেনদেন বাবদ প্রায় ১৪ লাখ টাকা পাওনা ছিল একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে জিয়ারুল ইসলামের। দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও আরিফ তা পরিশোধ করছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার চেয়ারম্যানের বাড়িতে নতুন করে সালিসের আয়োজন করা হয়। ওই সালিসে অংশ নিতে জিয়ারুল ইসলাম, তার চাচা আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন এবং আরিফের ছেলে আরাফাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, উপস্থিতদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে হঠাৎ আলিম উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাকে মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিয়াকত আলী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :