
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি আবুল খায়েরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জেলা শহর মাইজদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আবুল খায়ের সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবাগ্যা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একই ইউনিয়নের দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিল। এ কারণে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তার দাদি তাকে চিকিৎসার জন্য ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের কাছে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে ছাত্রীর দাদিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন শিক্ষক আবুল খায়ের। পরে একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এতে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৫ এপ্রিল ভিকটিমের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করে। পরে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
এদিকে মামলার পর ভিকটিমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনায় একটি মামলা করেছেন। একই সঙ্গে ভিকটিমের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আবুল খায়েরকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার (৮ মে) আদালতে পাঠানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :