হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামিক বক্তা মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। তার মন্তব্য ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি বিষয়টি নতুন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নৈতিকতা নিয়েও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “হবিগঞ্জ-৪ মাধবপুর-চুনারুঘাটের সাংবাদিক ভাইয়েরা কি রাজনৈতিক আধিপত্যবাদীদের রোষানলে পরাধীন?” একই পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রকৃত সাংবাদিক ভাইদের কলমের কালি অর্থের চেয়েও দামি” এবং “সালামের পর কালাম হবে”—এই বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, এলাকায় সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, একশ্রেণির সাংবাদিক প্রশাসনিক দপ্তর ও থানায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন, যার ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর অনেক ক্ষেত্রে আড়ালে চলে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন। এতে করে এক ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠছে, যা পেশাগত সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন অনেকে।
দৈনিক অগ্রযাত্রার মাধবপুর প্রতিনিধি ও মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন নোমান বলেন, তাহেরীর বক্তব্য সময়োপযোগী। তার মতে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আপস না করার কারণে কিছু সাংবাদিককে নানা চাপ ও সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সাংবাদিকতার আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে স্থানীয় এনপিবি পত্রিকার প্রতিনিধি ত্রিপুরারি দেবনাথ তিপু বলেন, সাংবাদিকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করে বলেন, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের কথা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :