আশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত


আব্দুর রশিদ সাতক্ষীরা। প্রকাশের সময় : মে ৭, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অধিকার রক্ষায় অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল আশাশুনির (প্রতাপনগর) মানুষ প্রতিনিয়ত নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুতে’ পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতা তুলে ধরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে আশাশুনি উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টায় কারিতাস বাংলাদেশ (খুলনা অঞ্চল)-এর ডিআরআর ও সিসিএ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জার্মানি ও বিএমজেড-এর আর্থিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে ক্যাম্পেইন পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ ঢালী, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন, ইউপি সদস্য রায়হানুজ্জামানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার কারণে আশাশুনির মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে যাযাবর জীবনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি এখন আর সাময়িক সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ শুধু ত্রাণের ওপর নির্ভর না করে টেকসই সমাধান ও ন্যায্য অধিকার পেতে পারে।

এ সময় বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জলবায়ু-অভিবাসিত পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা, নিরাপদ আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার, অভ্যন্তরীণ পুনর্বাসনের টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা তাদের হারানো ঘরবাড়ি ফিরে পাওয়ার আকুতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।