
রংপুরের ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত জিআই স্বীকৃত হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে এবারও বড় ধরনের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। স্বাদ, গন্ধ ও গুণগত মানে অনন্য এই আমের জন্য চাষি ও ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা আর মাত্র এক মাস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শুধু রংপুর অঞ্চলেই এই আমকে কেন্দ্র করে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বছর হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’ হওয়ায় ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি এ বছর আড়াইশ’ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে এই আমে।”
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রংপুর জেলায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। মৌসুমজুড়ে অনুকূল আবহাওয়া, বিশেষ করে বৃষ্টিপাত আমের বৃদ্ধি ও রসালো হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। যদিও কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে ফলন গত বছরের তুলনায় ভালো হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত এই আম জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে আসে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আম বাজারে বিক্রি করায় কৃষি বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে।
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার চাষি নাজমুল ইসলাম জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা রয়েছে। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় ক্রেতারা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, হাঁড়িভাঙা আম এখন শুধু দেশের নয়, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। জিআই স্বীকৃতির পর এর ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বেড়েছে।
তবে চাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার ও উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। কৃষি বিভাগের মতে, দ্রুত পচনশীল এই আম পরিবহনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি লাভ করে, যা রংপুরের এই ফলকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও মর্যাদা দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :