
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রী বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত তারই মাদরাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর বর্তমানে পলাতক।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘হযরত ফাতেমাতুজ জোহরা (র.) কওমি মহিলা মাদরাসা’-এর পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিফিন বা ছুটির সময় মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে মাদরাসা ও মসজিদের ভেতরে আটকে রাখা হতো।
শিশুটি আরও জানায়, ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। তাকে কাউকে কিছু বললে শাস্তির ভয় দেখানো হতো। জানা গেছে, একই ধরনের নির্যাতনের শিকার তার আরেক সহপাঠীও হয়েছে।
শিশুটির মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে চিকিৎসকের কাছে নিলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির বয়স ও শারীরিক গঠন বিবেচনায় গর্ভধারণ তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওজন মাত্র ২৯ কেজি এবং শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর পলাতক থাকলেও একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে মামলার আরেক আসামি ও অভিযুক্তের ভাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলাটি তুলে নিতে পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাব দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, “একজন শিক্ষকের এমন অপরাধ পুরো সমাজকে কলঙ্কিত করেছে।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর মাদরাসাটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :