বাংলাদেশের যে গ্রামে বিয়ে করতে চায় না কেউ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের যে গ্রামে বিয়ে করতে চায় না কেউ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এখন সামাজিক প্রভাবও ফেলতে শুরু করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে এই গ্রামের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকেই—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁনপাড়া গ্রামের প্রধান সড়কের মাঝখানে একটি খাল থাকলেও সেখানে কোনো সেতু নেই। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন গ্রামবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা যায় না। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হন। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয়।”

শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় তাদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়, পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। গ্রামের আরেক বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, “এ গ্রামের সঙ্গে কেউ বিয়ের সম্পর্ক করতে চায় না। যাতায়াতের কষ্ট দেখে অনেকেই পিছিয়ে যায়।”

যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হাঁটা বা ঘোড়ার গাড়ি। এতে কৃষকেরাও তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সড়ক ও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে গ্রামটি।

মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে নাগরপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ সেতু ও সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চাঁনপাড়ার বাসিন্দারা।