খুলনাঞ্চলে এবার ৫৬৩ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
খুলনাঞ্চলে এবার ৫৬৩ কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা 

খুলনাঞ্চলের চার জেলায় চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আমের আবাদ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় মোট ৭ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৭ হাজার ৭৪০ হেক্টর। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১৩ হেক্টরের বেশি জমিতে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে—বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি না হলে—এ অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। উৎপাদিত আম বিক্রি থেকে প্রায় ৫৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি আয় হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। পাশাপাশি প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলায় সর্বাধিক ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলাটিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে বিক্রির সম্ভাব্য মূল্য ৩৫৪ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে নড়াইল জেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে ৭ হাজার ৬০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এদিকে অপরিপক্ক আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কৃষি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ১৫ মে থেকে বাজারে আসবে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহ শুরু হবে।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ভোমরাজপুর গ্রামের আম চাষি মো. সেলিম জানান, তিনি ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করেছেন এবং এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো দামে বিক্রির আশা করছেন তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিপক্ক আম সংগ্রহ থেকে বিরত থাকা এবং পোকামাকড় দমনে সঠিকভাবে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খুলনাঞ্চলের আম দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।