
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপের কারণে প্রায় ২৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রামের শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, নান্দেশ্বরী এলাকায় তিন ফসলি জমির পাশেই গড়ে ওঠা আলিফ ব্রিকস ও টাইগার ব্রিকস নামের ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া ও তাপের প্রভাবেই পাশের জমির পাকা ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে বাউখন্ড, নান্দেশ্বরী, চালা, নারায়ণপুর ও ভবনহাটি গ্রাম উল্লেখযোগ্য। কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম না মেনে ইটভাটা পরিচালনার কারণে প্রতি বছরই তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, “৭০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে চাষ করেছি। এখন সব ধান পুড়ে গেছে। এই ফসল দিয়েই সারা বছর পরিবার চালাই। এখন কীভাবে চলব জানি না।”
আরেক কৃষক খলিল জানান, “একশ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। কিস্তিতে সার কিনেছিলাম। ফলন আসতে শুরু করেছিল, কিন্তু হঠাৎ সব শেষ হয়ে গেল। এই ধান বিক্রি করেই ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতাম।” ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকেই ঋণ নিয়ে কিংবা বর্গা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। ফলে হঠাৎ এমন ক্ষতিতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ইটভাটার কারণেই ধানের এ ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, “তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ধামরাই এলাকায় প্রতিবছরই ইটভাটার কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :