নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ঘটনার পর থেকে সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে অবস্থিত ‘হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’র শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখে এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় পাঁচ মাস মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে।
পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা, যিনি সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন, বিষয়টি জানতে পারেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে। এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার জানান, শিশুটির বয়স অত্যন্ত কম, ওজন মাত্র ২৯ কেজি এবং উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তার শরীরে রক্তশূন্যতা ও তীব্র অপুষ্টি রয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর আকার তুলনামূলক বড় হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চিকিৎসকরা শিশুটির জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিলের পর থেকে তিনি মাদরাসায় অনুপস্থিত এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :