পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় কৃষকরা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় কৃষকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট এবং বাজারে ধানের কম দামের কারণে অনেক কৃষক ধান কাটতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদের মাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক কৃষক এখনও মাঠে নামছেন না।

উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের অবিরাম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আগে কাটা ধান শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক জায়গায় সিদ্ধ করা ধান রোদ না পাওয়ায় পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, অনেক মাঠে এখনও পাকা ধান পড়ে আছে, যা যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বাদৈর ইউনিয়নের বাদৈর গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, “আগে যে ধান কেটেছি, সেটাই ঠিকমতো শুকাতে পারছি না। এখন আবার নতুন করে ধান কাটলে ক্ষতি আরও বাড়বে। তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করছি।”

একই ধরনের কথা বলেন মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের কৃষক আবু তাহের। তিনি জানান, “এক মণ কাঁচা ধানের দাম মাত্র ৭০০ টাকা। এই দামে ধান বিক্রি করে খরচই ওঠে না। তাই অনেকেই ধান কাটতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।” কৃষকদের ভাষ্য, আগে কাটা ধান শুকাতে না পারায় নতুন করে ধান কাটলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে ধান চাষের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রুত ধান কাটা না গেলে মাঠের পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানিয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মসজিদের মাইকে সচেতনতামূলক ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।”তবে বাস্তবতা হলো—প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, ন্যায্য দামের অভাব এবং শ্রমিক সংকটের চাপে কসবায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের অনিশ্চয়তা কাটছেই না।