একদিকে টানা বৃষ্টি অন্যদিকে রোদের অভাব, উভয় সংকটে কৃষকরা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
একদিকে টানা বৃষ্টি অন্যদিকে রোদের অভাব, উভয় সংকটে কৃষকরা

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পাকা ধান তলিয়ে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকেরা। যারা কোনোভাবে ধান কেটে ঘরে তুলেছেন, তারাও রোদের অভাবে শুকাতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক স্থানে ধান পচে যাচ্ছে, আবার কোথাও পাকা ধান থেকে চারা গজানোর ঘটনাও দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩ মে) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী জেলার কিছু নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কিছু স্থানে কমেছে। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩.১৬ মিটার হয়েছে। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ২.৭৮ মিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি এবং ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমেছে।

পাউবো জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও বিভিন্ন পয়েন্টে তা ১১০ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পানির স্তর আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

পাউবো কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা।