আন্তর্জাতিক চা দিবস আজ : এক কাপ চায়ের আড়ালে শ্রমিকদের দীর্ঘ বঞ্চনার গল্প


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক চা দিবস আজ : এক কাপ চায়ের আড়ালে শ্রমিকদের দীর্ঘ বঞ্চনার গল্প

আজ ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। তবে চায়ের কাপে আভিজাত্যের সুবাস ছড়ালেও সেই চায়ের পাতা সংগ্রহকারী শ্রমিকদের জীবনে এখনো রয়ে গেছে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তা।

জাতিসংঘ ২০১৯ সালে ২১ মে-কে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড

এবার চা-পাতা চয়নকারী প্রতিযোগিতা-২০২৫-এ দেশসেরা চা-পাতা উত্তোলনকারী নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগান–এর শ্রমিক জেসমিন আক্তার। টানা তৃতীয়বারের মতো এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি। মাত্র ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা-পাতা তুলে অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলেন জেসমিন।

৪৩ বছর ধরে চা-বাগানে কাজ করা জেসমিন গণমাধ্যমকে জানান, সংসারের অভাব দূর করতেই নববধূ অবস্থায় চা-বাগানে কাজ শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর এই অর্জনে তার পরিবারও আনন্দিত।

তবে একজন শ্রমিকের সাফল্যের গল্পের আড়ালে দেশের অধিকাংশ চা শ্রমিকের জীবন এখনো কষ্টে ভরা। বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা ৪০ পয়সা মজুরিতে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেক বাগানে নিয়মিত বেতন না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চা শ্রমিকদের অভিযোগ, এখনো অনেক পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছে। বিশুদ্ধ পানি, উন্নত চিকিৎসা ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত। শ্রমিক নেতারা বলছেন, শুধুমাত্র দিবস পালন নয়, বাস্তবিক অর্থে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের দাবি, সম্মানজনক মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ বাসস্থান ও বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকদের জীবনমান এখনো উন্নত হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক চা দিবস এলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন খুব একটা চোখে পড়ছে না।

উল্লেখ্য, ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সিলেট ও আসামে চা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় শ্রমিকের সংকট থাকায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক এনে চা-বাগানে কাজ করানো হয়। অমানবিক নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে ১৯২১ সালের ২১ মে চা শ্রমিকরা ঐতিহাসিক আন্দোলনে অংশ নেন। সেই আন্দোলন দমনে বহু শ্রমিক নিহত হন। এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও ন্যায্য অধিকার ও মানবিক জীবনযাপনের দাবিতে তাদের সংগ্রাম এখনো অব্যাহত রয়েছে।