
ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন নিয়ম ভেঙেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফার ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান তার পোস্টে অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, নিয়ম পরিবর্তন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাধাগ্রস্ত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ইরান প্রত্যাখ্যান করে।
ইরানের অভিযোগের অন্যতম বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ফাউলের কারণে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নকআউট ম্যাচে তার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। এরপর ফিফা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে খেলতে দেয়।
ফিফার এ সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ও রাজনৈতিক প্রভাবের ফল বলে সমালোচনা করে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা। যদিও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানি দলের টেকনিক্যাল স্টাফ ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা হয় বলেও দাবি করেছে দেশটি।
এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের বেস ক্যাম্প ও অনুশীলনের সুযোগ সীমিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে দলকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবস্থান করতে হয় এবং ম্যাচের দিন বিমানযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে হয়েছে।
ইরানের দাবি, দীর্ঘ ভ্রমণ ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে দলের পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গ্রুপ পর্বে তারা কোনো ম্যাচে পরাজিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গত ২৮ জুন নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি ইরান।
আপনার মতামত লিখুন :