
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুলে ন্যাটোভুক্ত দেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকেও স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। এ ঘোষণা তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া হয়।
সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তার অভিযোগ, স্পেন ন্যাটোর নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সম্মত হয়নি এবং ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে ট্রাম্প স্পেনকে জোটের ‘দুর্বল অংশীদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার কোনো আগ্রহ তার নেই এবং বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশও দেন।
স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামরিক ঘাঁটি—রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমানঘাঁটি—অবস্থিত। এর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইস্যুতে সহযোগিতা না করা ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছিল পেন্টাগন, যার মধ্যে স্পেনকে জোট থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাবও ছিল।
গত মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক স্থাপনা এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি স্পেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পেছনে এই ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, ওই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের প্রায় ৮০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, অভিযানে ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :