
ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মাধ্যমে চলতি বছরে অন্তত ছয়টি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রথম পরিবর্তনটি এসেছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে। আইসিপি ১৪ দিন ও ৬০ দিন মেয়াদী ইউএই এন্ট্রি ভিসার যোগ্যতার পরিধি সম্প্রসারণ করেছে। আগে এই সুবিধা নির্দিষ্ট শর্তে সীমিত কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য থাকলেও এখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও এর আওতায় এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার নাগরিকরাও নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য দুবাইয়ে ভিসা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হয়েছে। অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ থেকে ৬০ দিনের এককালীন প্রবেশযোগ্য পর্যটন ভিসা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ)।
আবাসন বিনিয়োগকারীদের জন্যও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। দুবাইয়ে দুই বছরের সম্পত্তি-লিঙ্কড রেসিডেন্সি পারমিটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭,৫০,০০০ দিরহাম সম্পত্তি মূল্যের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে একক মালিকানা থাকতে হবে। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রত্যেক অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪,০০,০০০ দিরহাম হতে হবে।
অন্যদিকে, ওভারস্টে জরিমানার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষের পথে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে যেসব পর্যটক ও ভিসাধারীকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে আইসিপি। এই সময়ের মধ্যে ৯ জুলাইয়ের আগে ভিসার অবস্থান বৈধ করতে হবে, না হলে দেশ ত্যাগ করতে হবে।
চিকিৎসা পর্যটন খাতেও নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই। ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’ নামে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা চলছে, যেখানে ভিসা, রেসিডেন্সি ও চিকিৎসাসেবা একসঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের আগমন থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও ফলোআপ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।
সবশেষে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা কয়েকটি দেশের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে ইউএই-এর ভিসা ব্যবস্থা আরও ডিজিটাল, দ্রুত এবং বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে, যা পর্যটন ও প্রবাসী অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
আপনার মতামত লিখুন :