
মাত্র ছয় বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ, অসংখ্য চ্যালেঞ্জ ও একসঙ্গে এগিয়ে চলার অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে বিশ্ব সংগীতের মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে জাপানি পপ ব্যান্ড এক্সজি (XG)। ব্যতিক্রমী সংগীত, নিজস্ব পরিচয় ও সদস্যদের গভীর বন্ধনের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ব্যান্ড।
মঞ্চে ওঠার আগে প্রতিদিন রাতে সাত সদস্য একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করেন। দলের প্রধান জুরিন ‘হেসোনো’ বলে ডাক দেন, এরপর অন্য সদস্যরা একসঙ্গে সাড়া দিয়ে হাত আকাশের দিকে তুলে ধরেন। জাপানি ভাষায় ‘হেসোনো’ শব্দের অর্থ নাড়ির বন্ধন। এক্সজির কাছে এটি তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ঐক্য ও একসঙ্গে স্বপ্ন পূরণের প্রতীক।
দলের সদস্য চিসা জানান, তারা একে অপরের সঙ্গে এতটাই ঘনিষ্ঠ যে অনেক সময় একই বিষয় একইভাবে ভাবেন। শুরু থেকেই তার স্বপ্ন ছিল, সদস্যরা যেন একটি অদৃশ্য বন্ধনে যুক্ত থাকেন। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় তাদের এই বিশেষ পরিচয়ের ধারণা।
এক্সজির পথচলা শুরু হয় ২০১৬ সালে। জাপানের হাজারো আগ্রহীর মধ্য থেকে সদস্যদের বাছাই করা হয়। এরপর ২১ জনকে নিয়ে শুরু হয় কঠোর প্রশিক্ষণ। একই জায়গায় থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলত গান, নাচ, পারফরম্যান্স ও বিভিন্ন ভাষা শেখার অনুশীলন।
প্রশিক্ষণের সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। কঠোর নিয়ম, শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সদস্যদের। মায়া বলেন, সেই সময়টি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়—নিজের সঙ্গে এক ধরনের লড়াইয়ের মতো।
দীর্ঘ ছয় বছরের প্রস্তুতির পর ২০২২ সালে প্রথম গান প্রকাশ করে এক্সজি। শুরু থেকেই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যায় তারা। এরপর তাদের গান দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এক্সজির সংগীতে নব্বইয়ের দশকের সুর, আধুনিক পপ সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতমুখী ভাবনার মিশেল দেখা যায়। ২০২৫ সালে বিশ্বের অন্যতম বড় সংগীত উৎসব কোচেল্লায় অংশ নেওয়া একমাত্র জাপানি দল ছিল এক্সজি, যা তাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে।
তবে ব্যান্ডটির যাত্রায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল দলের সবচেয়ে ছোট সদস্য কোকোনার ব্যক্তিগত পরিবর্তন। নিজের ২০তম জন্মদিনে তিনি নিজের পরিচয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন এবং জানান, তিনি নিজেকে পুরুষালি পরিচয় ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে দেখেন।
কোকোনার এই সিদ্ধান্তে দলের সদস্যরা পূর্ণ সমর্থন জানান। ভক্তদের কাছ থেকেও আসে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। কোকোনা বলেন, তার এই আত্মপ্রকাশ যদি অন্য কারও জন্য সাহস বা আশার কারণ হয়, তাহলে সেটিই তার সবচেয়ে বড় পাওয়া। এরপর এক্সজি নিজেদের নামের অর্থেও নতুন ভাবনা যুক্ত করে। আগে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি গার্লস’ বোঝালেও এখন তারা ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি জিনস’ হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরছে।
নতুন সংগীতে তারা আগের ধারা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করছে। সদস্যদের মতে, তাদের মূল বার্তা হলো—নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করা এবং স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের ওয়েম্বলি মঞ্চে বড় আয়োজনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে এক্সজি। বিশ্ব সফরের মাধ্যমে তারা আবারও দেখাতে চায়, ছয় বছরের কঠোর পরিশ্রম, ঐক্য ও পারস্পরিক বিশ্বাসই তাদের সাফল্যের মূল শক্তি।
আপনার মতামত লিখুন :