
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বাজার সংলগ্ন এলাকায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতঘর, উঠান, ধর্মশালা ও স্থানীয় মন্দির। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১২ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, চলাচল, টয়লেট ব্যবহারসহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার ইট, বাঁশ ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করছে। স্থানীয়রা জানান, অনেক বাড়ির রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালার ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের চারপাশে বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল ও কালভার্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে দিনের পর দিন জমে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে বিছানাপত্র, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। পাশাপাশি পানিবন্দি এলাকায় সাপসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী বিষ্ণু চক্রবর্তী বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যায় পড়তে হয়। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মন্দিরে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই।”
আরেক বাসিন্দা দুলর্ভ চন্দ্র পাল বলেন, “চারদিকে রাস্তা হয়েছে, কিন্তু পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা ডুবে যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।” এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।” এদিকে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
আপনার মতামত লিখুন :