
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলাকে দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।
সম্প্রতি তিনি ভালুকা উপজেলার বিখ্যাত ‘উদ্দীপন কুমির খামার’ এবং একটি আধুনিক মাছের খামার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ভালুকার মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উদ্দীপন কুমির খামার পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুমিরের যথাযথ সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক প্রজনন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই খামার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভালুকার মৎস্য খাতের উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ‘ভালুকা ফিশ অ্যান্ড মিট প্রসেসিং কেন্দ্র’ স্থাপন, যেখানে মাছ ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা থাকবে।
এ ছাড়া পাঙ্গাস মাছের উন্নত প্রজনন, খামারি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তার জন্য পাঙ্গাস হ্যাচারি ও ট্রেনিং কমপ্লেক্স স্থাপন, মৎস্য রোগ নির্ণয় ও খাদ্য পরীক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি নির্মাণ, মাছ সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মৎস্য আড়ৎ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মৎস্য খামারগুলোর আধুনিকায়নে বিশেষ যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন খরচ কমাতে বিদ্যুৎ ও মৎস্য খাদ্যে ভর্তুকির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “ভালুকার মৎস্য চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং এই অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে আধুনিক ল্যাবরেটরি, কোল্ড স্টোরেজ ও প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” প্রতিমন্ত্রীর এসব ঘোষণায় স্থানীয় মৎস্য খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভালুকার মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আপনার মতামত লিখুন :