
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে ভারতের পুঁজিবাজারে।
বুধবার (৮ জুলাই) ভারতের প্রধান দুই শেয়ার সূচক নিফটি-৫০ ও বিএসই সেনসেক্স গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের পতনের মুখে পড়ে। দিন শেষে নিফটি-৫০ সূচক ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে এবং সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর তারা বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করেছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভারতের মুদ্রাবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। রুপির মূল্য ০ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫ দশমিক ৫৫৫০ রুপিতে নেমে আসে। একই সঙ্গে সরকারি বন্ডের দামও কমেছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশটির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ওয়েলথমিলস সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি কৌশল বিভাগের পরিচালক ক্রান্তি বাথিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দাম নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা ভারতের বাজার ও অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শেষ পর্যায়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় পরিমাণে শেয়ার বিক্রির কারণে বাজারের পতন আরও তীব্র হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে আর্থিক, তথ্যপ্রযুক্তি, তেল ও গ্যাস, অটোমোবাইল এবং এফএমসিজি খাত। তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান, রং উৎপাদনকারী, বিমান পরিবহন ও টায়ার নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :